বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২০, ০৪:২৪ অপরাহ্ন

বকশীগঞ্জ থানার ওসি সম্রাটের সুদৃষ্টি।। ঈদের দিন মোরগ প্লাউ খাবেন হাজেরা বেওয়া

সংবাদদাতার নাম
  • প্রকাশ সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২০
  • ১৫২ দেখেছেন

এম শাহীন আল আমীন।। পবিত্র ঈদুল আযহার দিনে মোরগ প্লাউ খাবেন বকশীগঞ্জের পলাশতলা গ্রামের সেই শতবর্ষী ভিক্ষুক হাজেরা বেওয়া।
দিনভর বিভাগীয় কাজের ব্যাস্ততার পরেও মধ্যরাতে একমাসের খোরাকী, ঈদের বাজার ও ঔষুধ কেনার টাকা শুক্রবার মধ্যরাতে বরাবরের মত অসহায় শতবর্ষী ভিক্ষুক হাজেরা বেওয়ার বাড়িতে হাজির হয়েছেন বকশীগঞ্জ থানার মানবিক অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম সম্রাট।

Exif_JPEG_420


বকশীগঞ্জ থানা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দুরে পাহাড়ের সীমান্তবর্তী পলাশতলা গ্রামে গিয়ে বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ গরীবের বন্ধু বলে পরিচিত শফিকুল ইসলাম সম্রাট এক মাসের খোরাকী বাবদ সকল বাজার, ঈদের যাবতীয় বাজার ও একমাসের ঔষুধ কেনার টাকা দিয়ে আসেন।

Exif_JPEG_420


বাজারের মধ্যে রয়েছে চাল,ডাল,মুরগী,তৈল,চিড়া,মুড়ি,চিনি,লবন,সাবান,
বিস্কুট,লুডুস ইত্যাদি।

উল্লেখ্য বকশীগঞ্জ উপজেলার পলাশতলা গ্রামের শতবর্ষী নিঃসন্তান ভূমিহীন হাজেরার স্বামী মারা যায় ৪০ বছর আগে। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই ৪০ বছর ধরে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। বাড়িঘর ও বসতভিটা না থাকায় বোনের ঝুপড়ি ঘরের এক কোনায় স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে বসবাস করে আসছে। বয়সের ভারে শারিরীকভাবে স্বাভাবিক চলা ফেরা করতে পারেনা। প্রায় অচলাবস্থায় জীবিকার প্রয়োজনে ভিক্ষা করতে হয় তাকে। ভিক্ষা না করলে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটায় হাজেরা।

Exif_JPEG_420


শফিকুল ইসলাম সম্রাট বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেই অসহায় বৃদ্ধা হাজেরা বেগমের অবস্থা জানতে পেরে সরেজমিনে হাজেরার বোনের বাড়িতে যান। অবস্থা দেখে তিনি মানবিক কারনে হাজেরার ভরণ পোষনের দায়িত্বভার গ্রহন করেন।
বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম সম্রাট দায়িত্ব নেওয়ার পরই ৪০ বছরের ভিক্ষাবৃত্তি পেশা ছেড়েদেন হাজেরা বেওয়া। দুখি হাজেরার মুখে ফুটে হাসি। পাল্টে যায় হাজেরার জীবন চিত্র। ওসি সম্রাটের হাত ধরেই শেষ বয়সে সুখের সন্ধান পেয়েছে হাজেরা বেওয়া।
শত ব্যস্ততার মাঝেও নিজের বেতনের টাকাশ প্রতিমাসের ১ তারিখেই পুরো মাসের বাজার করে হাজেরা বেগমের কাছে দিয়ে আসেন ওসি সম্রাট ।

Exif_JPEG_420


এ ছাড়াও ওসি শফিকুল ইসলাম সম্রাটের ছোট ভাই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড হাসানুজ্জামান হাসান মানবিক কারণে স্বেচ্ছায় হাজেরার বসত ঘরের সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যাক্তিগতভাবে অনুদান দেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীতে আরোও সংবাদ
Copyright BY

themesba-lates1749691102