সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২০, ০৩:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাংবাদিক দোলন বিশ্বাসকে হুমকি বকশীগঞ্জে মরাগরু জবাই।। ৬০ হাজার টাকা জরিমানা প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার থেকে বঞ্চিত হলো ইসলামপুরের ৭ শতাধিক পরিবার কাচপুর চাঁদাবাজি বন্ধে ও যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স ওসি মোজাফফর মালয়েশিয়ায় রায়হানের মুক্তির জন্য আদালতে লড়বেন ফরাসি আইনজীবী নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রেসক্লাবের ঈদ উপহার রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানায় বিস্ফোরণ আওয়ামীলীগের অভিযান।। কেন্দ্র থেকে উপজেলা সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ডাকাত ছিনতাইকারী মাদক ব্যবসায়ীসহ আটক-১২ সিদ্ধিরগঞ্জে ওমরপুর পশুর হাট নানা অনিয়মের অভিযোগ দুর্ভোগের সীমা নেই বিক্রেতাদের-উদাশিন ইজারাদার!

সব দোষ কি করোনার?

সংবাদদাতার নাম
  • প্রকাশ সময় : সোমবার, ২২ জুন, ২০২০
  • ৩৪ দেখেছেন

পত্রিকায় দেখলাম ঢাকা শহরে শুধু টু- লেট। কক্সবাজার শহরেও শুরু হচ্ছে এখন। বাসা ছেড়ে দিয়ে এখন ছুটতে হচ্ছে গ্রামের দিকে। কে দায়ী এসবের জন্য???
আমাদের মধ্যবিত্তের বদলে যাওয়া লাইফস্টাইল কি দায়ী নয় এজন্যে?একটা অপ্রিয় কথা বলি, কিছু মনে করবেন না। আমাদের এই শহরে লাইফস্টাইলে প্রব্লেম ছিলো। শো অফ বেশি ছিলো। নইলে অন্তত ছয় মাস বসে খাওয়ার মতো টাকা সব পরিবারেই জমে থাকার কথা। যতটুকু ইনকাম, কালের স্রোতে গা ভাসাতে যেয়ে খরচ তার চেয়ে বেশি হয়েছে। যতটুকু স্ট্যাটাস, যতটুকু সামর্থ্য, মানুষ নগদে তার চেয়ে উঁচু তলায় বাস করেছে। যতটুকু জানা যায় পূর্বে মানুষের আর্থিক অবস্থা এখনকার চেয়ে অনেক খারাপ ছিল। কিন্তু এই গরীব মানুষদেরই আজীবন যথেস্ট সেভিংস ছিলো, খেয়ে না খেয়ে শহরের কোনায় এক টুকরো জমি ছিলো। গ্রামে একটা স্থায়ী ঠিকানা ছিলো। পরিবার গরীবি হালে চললেও মায়ের আঁচলের গিঁট আর ডানোর খালি ডিব্বাতেও কয়েক গাছি টাকা থাকতো।

আর এখনকার মানুষদের কার্ড ভর্তি লোন, ইন্সটলমেন্ট, ব্যাংক লোন। জমি জিরাতের খবর নেই অথচ শহরের প্রাণকেন্দ্রে টাইলসওয়ালা ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতে পারলেই খুশি। আমি নিজেও সে স্টাইলের।
সঞ্চয়ের খবর নেই অথচ ঘোরাঘুরি আর রেস্টুরেন্টে খেতে পারলেই খুশি। পকেটে টাকা নেই তাই মন মানসিকতা মলিন, অথচ পার্লারে/সেলুনে হাজার টাকা খরচে ফেসিয়াল করে চামড়া চকচকে করতে পারলেই হলো। এটা কোনো লাইফ?

কেউ এখন আর ঘরের ড্রইংরুমে আড্ডা দেয়না। পাঁচ দশ টাকার বাদাম কিনে ছাদে গোল হয়ে বসে গল্পগুজব করেনা। সবার ফাস্টফুডের দোকানে যেতে হবে। শখের সব খেলনাই কিনতে হবে। এফেয়ার করতেই হবে, ভ্যালেন্টাইন ডে থেকে শুরু করে চকলেট ডে কিস ডে সব সেলিব্রেট করতে হবে। অথচ রেস্পন্সিবল লাইফ কাটাতে হবে দেখে অনেক ছেলে চাকরী পাবার আগে মেয়েদের ধারে কাছেও যেতোনা। এখন সবাই হিরো, পাপাস প্রিন্স, মাম্মাস প্রিন্সেস।

এসব করে মাসে মাসে যে পাঁচ সাত হাজার টাকা বেশি খরচ করেছে, সেটা জমালে বছরে ৬০-৭০ হাজার টাকা অতিরিক্ত জমতো। দশ বছরে ৬-৭ লাখ টাকা। যেটি দিয়ে এখন ঘরে বসে ছয় সাত মাস বড়লোকের মতোই পরিবারগুলো কাটাতে পারতো। অথচ সেটা না করে বরং গর্ব ভরে শেয়ার করছি, চিন্তা করছি যে মানিব্যাগে হাজার নিয়ে বের হলে এক ঘন্টা পরে ভাংতি বিশ ত্রিশ টাকার বেশি থাকেনা।

একটু রোজগার করতে পারলেই একান্নবর্তী পরিবার থেকে সবাই আলাদা হয়ে গিয়েছি। ইউনাইটি কি জিনিস ভুলে গেছিছ। গ্রামের শেকড় ভুলে গেছে গর্বের সাথে, অথচ গ্রাম থেকে আসা বছরে দু চার বস্তা ভর্তি আম কাঠাল বা চাল/মুড়ির কি বরকত সেটা বুঝতে চায়নি। ছুটিতে কক্সবাজারের ফাইভ স্টার হোটেলে খরচ না করে গ্রামের বাড়িতেও যে বেড়ানো যায় সেটা আমরা কেউ বুঝিনি। আগে মানুষ কয়েক বছরে এক আধবার লাক্সারি ট্যুর দিতো। আর এখন প্রতি বছর লাখ টাকা খরচ করে ইন্সটলমেন্টে হলেও দেশ-বিদেশে ঘুরতে যাচ্ছে দুইটা ফটো তোলার জন্য।

আমি গত পাঁচ সাত বছরে ঢাকা শহরের কথা বাদ দেন কক্সবাজার শহরে মধ্যবিত্ত বলে কিছু দেখিনি। সবার ঠাঁঠবাট প্রায় একরকম। তবে এখন দেখছি, গত কয়েক মাস ধরে। এত খরুচে আর ভোগপণ্যের দাস হয়ে আজীবন বর্তমানে বেঁচে থাকতে গিয়ে দুই-তিন মাসের ভবিষ্যত নিরাপত্তাটা নিয়েও ভাবার ক্ষমতা হারানো এই শহরবাসীদের এখনকার বাস্তবতা খুব দুঃখজনক।
মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুক। দূর হোক এই মহামারী।
।।শফিকুর রহমান।।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীতে আরোও সংবাদ
Copyright BY

themesba-lates1749691102