বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২০, ০৪:১৭ অপরাহ্ন

ডা: নিশাত তাসনিম এর কলাম ।। করোনা প্রতিরোধে হোমিও চিকিৎসা – ০১

সংবাদদাতার নাম
  • প্রকাশ সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২০
  • ২২১ দেখেছেন

করোনা ভাইরাসের দাপটে বতর্মান বিশ্ব থমকে গেছে। প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যুর সংখা । আক্রান্ত কোটির ঘর ছেড়ে গেছে। পেশায় আমি একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। জেনারেল লাইনেও পড়া লেখা অব্যাহত রেখেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার একাডেমিক অভিভাবক। পড়া লেখা শেষ করে বের হয়ে আসার সময় আরও ছয়মাস আগেই শেষ হয়ে যেতো। পিছিয়ে গেছি ছয় মাস। কারণ করোনা সেখানেও আঘাত হেনেছে। সেই ফাকেঁ হোমিওপ্যাথিক বিষয়ে গবেষনা বা স্টাডি একটু বাড়িয়ে দিয়েছি। এর আগেও আমি আমার দায়িত্বের তাড়নায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ে পর পর ২টি প্রবন্ধ লিখে ছিলাম। প্রকাশও হয়েছে। যাই হউক সে দিকে যাচ্ছিনা। কারণ আমার আলোচিত বিষয় করোনা প্রতিরোধে Arsenic Album এর ব্যবহার ।
বিশ্বের সকল হোমিও চিকিৎসকরা লক্ষন ভিত্তিক চিকিৎসা করে থাকেন। আমিও তাই করি। হোমিও্যাথির জনক Christian Fried Samuel Hahnemann ( M.D : Doctor of Madicin) ,Dr. Von Boenningghausen, Dr.Constentine Hering, Dr. Whihem Herich Schussler,Dr.James Tylar Kent, Dr.Clarke M.D, D.W.E Boyd mM.D, Dr. Black, Dr. Rath ও Dr.Wiliam Borik সহ বিশ্বের নামকরা সকল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরাও লক্ষন ভিত্তিক চিকিৎসা করে গেছেন। এখনও তাদেরকেই অনুস্বরণ করছেন হোমিও বিশ্ব।
করোনা ভাইরাসের আগমন পৃথিবীতে নতুন। তার আগমন ও ক্রিয়ার লক্ষনও নতুন। শুধু তাই না করোনা ভাইরাসের দাফন কাফনেও নতুনত্ব বিরাজমান। কারণ আমরা সবাই জানি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তার স্বাভাবিক দান কাফন হয়না । ব্যাতিক্রম দাফন কাফনের মধ্য দিয়ে মৃত ব্যাক্তির ঘাতক করোনা পৃথিবী থেকে প্রস্থান করে। করোনার থাবায় বিশ্ব তছনছ। করোনা সবার কাছে অপরিচিত। অদৃশ্য। কিন্তু তার ক্রিয়া দৃশ্যমান।
তবে একটি ইতিহাস আমাকে অবাক করে তুলেছে। Christian Fried Samuel Hahnemann ( M.D : Doctor of Madicin) এর Arsenic Album এর লক্ষন গবেষনা। Christian Fried Samuel Hahnemann ( M.D : Doctor of Madicin) এর জন্ম ১০ এপ্রিল ১৭৫৫ ইং । ১৭৭৯ ইং সনে জার্মানের আর্লানজেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসা বিদ্যায় M.D : Doctor of Madicin ডিগ্রী লাভ করেন। ১৮০৫ সাল থেকে Christian Fried Samuel Hahnemann ( M.D : Doctor of Madicin) এর Arsenic Album এর গবেষনার ফলাফল দেখে। ১৮০৫ সাল থেকে বতর্মান সময় পযর্ন্ত Arsenic Album কী কী উপসর্গ নিয়ে মানব দেহে হাজির হতে পারে । ২১৫ বছর পর করোনা ভাইরাস Arsenic Album এর উপস্বগ নিয়ে মানবদেহে হাজির হয়েছে। তার মানে ২১৫ বছর আগেই Dr. Christian Fried Samuel Hahnemann বুঝতে পেরে ছিলেন।
আমার ইচ্ছা ছিলো করোনা রোগির চিকিৎসা করা । বিবিসির জরিপে বাংলাদেশের ৩০ শতাংশ মানুষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। বাংলাদেশের একটি বিশ্ব বিদ্যালয় ওই জরিপ পরিচালনায় সহায়তা করেছে। বাংলাদেশে নানা চিকিৎসা পদ্ধতী বিদ্যমান রয়েছে। আমি বা আমার হোমিপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্বতি শতকরা ৩০ ভাগ মানুষের আস্থার প্রতীক। বাংরাদেশে লোক সংখ্যা যদি ১৮ কোটি ধরি। তাহলে হোমিও ডাক্তার বাংলাদেশের সাড়ে ৫ কোটি মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। একজন হোমিপ্যাথিক ডাক্তার হিসেবে আমি গবিত। কারণ সাড়ে ৫ কোটি মানুষের চিকিৎসক আমি ও আমার সিনিয়র, জুনিয়র ও সহকারী হোমিও ডাক্তাররা।
আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও উপরে উল্লেখিত মহা বিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারদের গবেষনা মূলক বই পুস্তক ঘাটাঘাটি করে করোনা পজেটিভ ২ জন রোগির চিকিৎসা সেবা করার সুযোগ পেয়ে ছিলাম। সেই সুযোগ শুধু আমি একা না আমার এক বড়ভাইও ছিলেন। তিনি আমার চাইতেও বিজ্ঞ হোমিও ডাক্তার। কিন্তু তার পরেও আমার মত একজন সাধারণ হোমিও ডাক্তারের পরামশ তিনি কেন নিয়েছেন তা জানিনা। ইচ্ছা করলে তিনি হয়তু একাই পারতেন। কিন্তু তার পরেও আমার পরামশ গুরত্বসহকারে মেনে নিয়েছেন। অনেক চিন্তা ভাবনা ও ঘাটাঘাটি করে আমরা Arsenic Album দিয়ে করোনা পজেটিভ দুই রোগির চিকিৎসা শুরু করে ছিলাম । ২ রোগির মধ্যে ১ জন নিয়ম মাফিক হোমিও ওষুধ খেয়েছেন এবং প্রথম ১৪ দিন পরেই তার করোনা রিপোট নেগেটিভ আসে। তিনি সুস্থ্য হয়েছেন। মহান আল্লাহর রহমতে করোনা যুদ্ধে জযী হয়েছেন। আরেকজন মাত্র ২ মাত্রা হোমিও ওষুধ সেবনের পর তার ২য় বার নমুনা নেওয়া হয়েছে। তার রিপোট ২য় বার পরীক্ষায় আবারও পজেটিভ আসে। ২য় বার পজেটিভ আসার পর নিয়মিতভাবে হোমিও ওষুধ খেয়ে যাচ্ছেন। সপ্তাহ খানিক পরেই আবারও করোনা পরীক্ষা হবে। আমি তার জন্য দোয়া চাচ্ছি। আল্লাহ তাকে সুস্থ্য করুক। তিনি করোনা যুদ্ধে আল্লাহর রহমতে জয়ী হউক।
বিশ্বে করোনা বিশেজ্ঞরা যেভাবে করোনার লক্ষন বা উপসগ বণনা করেছেন তার প্রতিটি লক্ষন Arsenic Album এ আছে। তাই Arsenic Album করোনার জন্য খুবই উপযুক্ত ওষুধ। বিজ্ঞ ডাক্তারের পরামশ অনুযায়ি ওষুধ খেলে করোনা রোগি আরোগ্য হওয়ার সম্ভানা খুবই প্রবল। তবে হাতুড়ে ডাক্তার বজণ করতে হবে। এ কারণে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর আইজিপি অফিস থেকে সকল পুলিশ সদস্যকে বিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের কাছে হোমিও ওষুধ সেবনের জন্য অফিস আদেশ জারি করেছেন। (চলবে)
ডা: নিশাত তাসনিম
(ডিএইচএমএস, বিএইচবি ঢাকা )

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীতে আরোও সংবাদ
Copyright BY

themesba-lates1749691102