মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

বারোআড়িয়া ও চাদঁগড় নদীর ভাংগন থামছেনা ।। প্রতিকার চায় এলাকাবাসী

সংবাদদাতার নাম
  • প্রকাশ সময় : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০
  • ৮৫ দেখেছেন

১৯৯০ দশক হতে শুরু হওয়া বারোআড়িয়া ও চাঁদগড় নদী ভাঙ্গন আজও অব্যাহত। বারংবার ভাঙনের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে উপকূলবর্তী মানুষগুলো। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে বেড়িবাঁধটি ভেঙ্গে আবারো প্লাবিত হলো এলাকাটি। পৈত্রিক সম্পদ হারিয়ে তাদের শেষ ঠিকানা এখন রাস্তার উপর। অর্ধারে অনাহারে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটছে তাদের। খোঁজ নিচ্ছে না কেউ। এদিকে ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোপূর্বে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রকল্প প্রণয়ন করলেও তা আলোর মুখ না দেখায় একের পর এক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।সরেজমিনে ঘুরে এবং এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করে জানা যায়, ১৯৬৬-৭১ সালে পোস্টাল ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্ট (সিইপি) এর আওতায় ২৯ নং পোল্ডারের গোড়া পত্তন হয়। ১৯৯০ দশক হতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২৯নং পোল্ডারের বেড়িবাঁধের বিভিন্নস্থানে ভাঙ্গন শুরু হয়। এই বেড়িবাঁধের দৈর্ঘ্য ৪৯.৩২ কিলোমিটার, গ্রস এরিয়া ৮২১৮ হেক্টর এবং উপকুল এলাকা ৬৫৭৪.৪০ হেক্টর। বাঁধটি নির্মানের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫/৭টি স্থানে বড় ধরনের ভাঙ্গন সম্মুখীন হয় । তারমধ্য খুলনা জেলার বটিয়াঘাটার বারোআড়িয়া এবং ডুমুরিয়ার চাদগড় এলাকা অন্যতম।এই ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্যে পাউবো কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় ছোট-বড় বিভিন্ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন করলেও প্রকল্পগুলো আলোর মুখ না দেখায় ওই সমস্ত এলাকায় ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে।ওই এলাকায় ক্রমান্বয়ে এক হাজার একরের বেশি সম্পত্তি ভদ্রা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫ বার ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে ভুক্তভোগীরা।
পৈত্রিক সম্পদ হারিয়ে তাদের শেষ ঠিকানা এখন রাস্তার উপর।গত ২০ মে রাতে দানবীয় শক্তি নিয়ে প্রবল আঘাত আনে ঘূর্ণিঝড় আমফান। রাত সাড়ে এগারোটার দিকে প্রচন্ড জলোচ্ছ্বাসে বারোআড়িয়া এবং চাঁদগড়ের বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধটি চরম আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বারোআড়িয়া স্কুলের সামনে নির্মাণাধীন রিটায়েড ইংমেন্ট ভেঙ্গে ব্রীচ তৈরি হয়ে বারোআড়িয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। পানিতে মাছের ঘের তলিয়ে সব একাকার হয়ে যায়। ঢেউয়ে আছড়ে পড়া লবণাক্ত পানিতে ওয়াবদা সংলগ্ন সকল গাছপালার পাতা শুকিয়ে গেছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অর্ধহারে অনাহারে রাস্তার উপর দিন কাটছে। অনেকে অর্থের অভাবে মাচাং তৈরি করে সেখানে রাতযাপন করছে। খোলা আকাশের তলে বসবাস করছে ১০/১২টি পরিবার।সনজিত ঠিকাদার বলেন, আমার পৈত্রিক সম্পত্তি সব নদীর মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। রাস্তার উপর বসবাস করা ছাড়া আমার আর কোন উপায় নেই।স্ত্রী এক কন্যা সন্তান এবং মাকে নিয়ে অসহায় ও মানবেতর জীবন কাটছে তার। সৌরভ বৈরাগী বলেন, জলোচ্ছ্বাসে ঘরবাড়ি, খাদ্য-খাবার সবকিছুই ভেসে গেছে। খাদ্য কেনার পয়সাও নেই। আমাদেরকে কেউ ত্রান দিচ্ছে না। শুধু ত্রাণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে প্রায় দেড়শত পরিবার। এ প্রসঙ্গে সুরখালি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোঃ জাহিদুর রহমান বলেন, নদী ভাঙ্গন এলাকার একটি ঐতিহ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় বারংবার বাঁধটি ভাঙ্গন কবলে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর এটাকে নিয়ে একটি প্রজেক্ট খাড়া করেছে। ওয়াপদা মেরামতের নামে এখানে অর্থলুটপাট হয়। ফলে মানসম্মত কাজ না হয় বারবার বাঁধটি ভেঙে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ব্লু গোল্ড অত্যন্ত ধীরগতিতে কাজ করছে। নদীতে যে পানির চাপ তাতে বাঁধটি মেরামতের আগেই আবার ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মুহূর্তে বাঁধ ভাঙলে বটিয়াঘাটার বারোআড়িয়া, শম্ভুনগর, কোদলা, মঠবাড়িয়া ও সুন্দরমহল প্লাবিত হয়ে বৃহত্তর ডুমুরিয়াসদরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন উন্নয়ন বোর্ডের এসও রাশেদুল ইসলাম বলেন, বারোআড়িয়া এলাকায় ৭০০ মিটার, শম্ভু নগর এলাকায় ৬০০ মিটার এবং চাঁদগড় এলাকায় ২০০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা ইতিমধ্যে পাউবো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঝড়ের পর দিন এলাকার লোকজন এবং পাউবো তৎপরতায় ব্রীচটি বন্ধ করা সম্ভব হয়। বর্তমানে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় পাউবো ও ব্লু গোল্ড প্রকল্পের আওতায় বিকল্প বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ চলমান। কিন্তু বাঁধ নির্মাণের জায়গায় পাউবো একর ভক্ত না হওয়ায় স্থানীয় জনসাধারণ বেড়িবাঁধটি নির্মাণ করতে বাধা দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সুরখালি ইউপি চেয়ারম্যান এবং পাউবো কর্মকর্তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্থানীয় জনগণকে মোটিভেট করে কাজটি শুরু করা হয়। তিনি আরো বলেন, উক্ত বর্ণিত এলাকা এবং খুলনা জেলার অন্যান্য ভাঙ্গন কবলিত এলাকার সমূহে ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধানের জন্য ১৭৮০ কোটি টাকা ব্যায় “খুলনা জেলা ও তৎসংলগ্ন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে ভৈরব, আতাই, রূপসা, ভদ্রা, হামকুড়া ও গ্যাংরাইল নদী সিস্টেম পূনঃখনন/ড্রেজিংসহ বিভিন্ন নদী ভাঙ্গন কবলিত স্থানে নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজ” শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হয়ে আসলে স্থায়ী সমাধান হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীতে আরোও সংবাদ
Copyright BY

themesba-lates1749691102