বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২০, ০৪:৩১ অপরাহ্ন

নেত্রকোনার ১০ উপজেলার নাম করণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

সংবাদদাতার নাম
  • প্রকাশ সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০
  • ৮৫ দেখেছেন

🌐১- নেত্রকোনা সদর উপজেলা
ফকির বিদ্রোহ-পাগল বিদ্রোহের এক মহান ক্ষেত্র ছিল নেত্রকোণা। সপ্তদশ শতকের শেষভাগে নাটোরকোণায় বিদ্রোহ দমনকল্পে জমিদারদের সহায়তা প্রদানের নিমিত্ত স্থাপিত হয় একটি পুলিশ ফাঁড়ি বা চৌকি। কথিত আছে পাগলপন্থী বিদ্রোহীরা এই ফাঁড়িটি লন্ঠণ করে নিয়ে গেলে ফাঁড়ির কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ আত্ম রক্ষার্থে চলে আসে বর্তমান নেত্রকোণা সদর থানা কার্যালয় ভবনে। কিন্তু বর্তমান নেত্রকোণা ছিল আদিকালে সাতপাই মৌজাস্থ কালীমন্দির কেন্দ্রীক কালীগঞ্জ বাজার নামক স্থানে। পুলিশ ফাঁড়িটি কালীগঞ্জ বাজারে স্থানান্তরিত হয়ে গেলেও কাগজে-কলমে থেকে যায় নাটোরকোণা, ইংরেজদের সাহেবী উচ্চারণে হয়ে যায় নেত্রকোণা।
🌐২- কেন্দুয়া উপজেলা
আরব দেশের ইয়েমেন অন্তগর্ত “কেন্দা” নামক স্থান হইতে এক জন ধর্ম প্রচারক এই স্থানে আগমন করেন । তিনি বর্তমান কান্দাপাড়া , কেন্দুয়া ও বিপ্রবর্গ এই তিনটি পাশা পাশি গ্রামে ধর্ম প্রচারে নিয়োজিত ছিলেন । এই দরবেশের স্বদেশভূমি “কেন্দা” নাম টি কালক্রমে বিকৃত হইয়া কেন্দুয়া নামের উদ্ভব ।
🌐৩- বারহাট্টা উপজেলা
ইংরেজ সৈন্য বাহিনীরাও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বৌহাটী ও বরোহাটী গ্রামের অদূরে নৌ যোগাযোগের সুবিধার্থে বরোহাটী গ্রামের নামকরণের অনুকরণে গড়ে তোলে অপর জনপদ যা তৎকালে ব্রাহাট্টা নামে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে সেই ব্রাহাট্টা এখন বারহাট্টা নামে পরিচিতি পেলেও বারহাট্টা রেলস্টেশনের নামফলক খানা প্রাচীন ব্রাহাট্টা নামের স্মৃতি বহন করে চলছে ।
🌐৪- দুর্গাপুর উপজেলা
অনেকে মনে করেন, সোমেশ্বরী নদীর পূর্ব তীরে যে রাজবাড়ী স্থাপিত হয়েছিল সে স্থানটির নাম অধিষ্ঠাত্রী দেবী দশভূজার নামানুসারে দুর্গাপুর রাখা হয়। অন্য জনশ্রুতিটি হলো-দুর্গাপুর উপজেলাটিতে গারো হাজং এর বসবাস ছিল। যে সহানে সূসং মহারাজের রাজবাড়ী সহাপিত হয় সে স্থানটি ছিল দুর্গা নামে গারো ব্যক্তির দখলে। দুর্গা গারো অনুরোধেই এ স্থানের নামাকরণ করা হয় দুর্গাপুর।
🌐৫- আটপাড়া উপজেলা
ঈশাখাঁর শাসনামলে আটপাড়া সরকার বাজুহার অন্তর্ভূক্ত ছিল। পরবর্তী সময় পরগনায়েনা সিরুজিয়াল ও মৈমনসিংহ পরগনাভুক্ত হয়ে পড়ে। মৈমনসিংহ পরগনার জমিদার গৌরীপুরের ব্রজেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী নামানুসারে স্থানের নামকরন করেন ব্রজের বাজার। সে বাজারের পরবর্তী নাম আটপাড়া। স্থানীয়ভাবে আটপাড়া বাজারকে আজো ব্রজেরবাজার বলা হয়।
🌐৬- মদন উপজেলা
মদন সম্পর্কে কথিত আছে, মদনা নামক এক সামন্ত ভূ-স্বামীর নামানুসারে মদন নামের উদ্ভব। এ নামকরণে অনেক মতদ্বৈততা রয়েছে। কোন কোন ঐতিহাসিক মনে করেন যে পারস্যবাসীদের এ অঞ্চআেগমণকালে মুদন বা মদন নামের উদ্ভব। ফার্সী শব্দ মুদন এর বঙ্গার্থ শহর বা নগর। সেই থেকেই মুদন, পরে শব্দের অপভ্রম্যতার মদন নামে পরিচিত। অপরদিকে ফার্সী শব্দ মদন বলতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বা দন্ডায়মান হওয়াকে বুঝায়।
🌐৭-খালিয়াজুরী উপজেলা
এক জনশ্রুতি থেকে জানা যায়, এ অঞ্চলে খাসিয়াদের অবস্থান ছিল বিধায় স্থানের নামকরণ হয় খাসিয়াজুরী। কালক্রমে শব্দটি রূপান্তর হতে হতে খালিয়াজুরীতে রূপ নিয়েছে। অনেকই এ জনশ্রুতিটির উপর আলোচনা করতে যেয়ে বলেন যে, গারো, হাজং, খালিয়াজুরী নামকরণ যে ভাটী নামকরণের পরবর্তী সময়ে হয়েছে এবং সামন্ত রাজাদের শাসনামলে তা অনেকেই অনুমান করেন।
🌐৮- কলমাকান্দা উপজেলা
পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা পানির সঙ্গে পলিমাটি এসে এ অঞ্চল ভরাট ভূমিতে রূপান্তরিত হয়। এ ভরাট ভূমির স্থানীয় নাম কান্দা। কান্দায় জন্মানো কলমি গাছ (জলজ উদ্ভিদ) মাটি আটকে ধরে এ ভরাট ভূমিতে আরো মাটি সঞ্চয় করতে সহায়তা করে। সে কারণেই প্রথমে স্থানটি কলমিকান্দা নামে পরিচিত হয় ও পরে মানুষের মুখের ভাষায় কলমাকান্দা নামে পরিণত হয়।
🌐৯- মোহনগঞ্জ উপজেলা
মোহন সাহা নামে একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর নাম অনুসারে এই শহরের নাম করণ করা হয় বলে জানা যায়।
🌐১০- পূর্বধলা উপজেলা
এই উপজেলায় প্রায় ১৩০ একর বিশিষ্ট ঐতিহাসিক ও মনোরম রাজধলা নামক একটি বিল আছে। জনশ্রুতি আছে উক্ত বিলের পূর্ব পার্শ্বে তৎকালীন থানা গঠিত হওয়ায় অত্র থানার নামকরণ করা হয় পূর্বধলা থানা।
সুত্র- নেত্রকোনা জেলা উইকিপিডিয়া।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীতে আরোও সংবাদ
Copyright BY

themesba-lates1749691102